
Episode #3
যেভাবে বদলে গেল বাংলাদেশের ইতিহাস: মনসুর আহমেদ চৌধুরীর এক অদেখা ভুবন জয়ের গল্প
<p>সাত বছর বয়সে খেলতে গিয়ে একটি টেনিস বলের আঘাতেই চিরতরে নিভে যায় চোখের আলো। ১৯৫৬ সালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা একটি শিশুর জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিলেও, সেই অন্ধকার থেকেই তিনি একদিন রচনা করেছেন লাখো মানুষের অধিকার আদায়ের পথ।</p><p>Impact Lens Podcast-এর নতুন পর্বে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম এক জীবন্ত কিংবদন্তির—আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং স্থপতি।</p><p>সংগ্রাম ও শিক্ষার কণ্টকাকীর্ণ পথচলা তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। ১৯৫৭ সালে ঢাকা রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হওয়া দেশের প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রথম ছাত্র হিসেবে ব্রেইল পদ্ধতিতে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।</p><p>এরপরের গল্পটি শুধুই বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রাইভেট ম্যাট্রিক (SSC) পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পেতে তাকে লড়তে হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের সাথে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কার্জন হলের লাইব্রেরি থেকে বের করে দেওয়া বা আঙুলের ছাপ না মেলার অজুহাতে স্কলারশিপের টাকা তুলতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হওয়া—কোনো অবজ্ঞাই তাকে তার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। তৎকালীন উপাচার্যের হস্তক্ষেপে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করেন।</p><p>অধিকার আদায়ের লড়াই ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান “Nothing about us without us” (আমাদের ছাড়া আমাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়)—এই নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন:</p><p>* এবিসি (ABC): ১৯৭৮ সালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তার জন্য ‘অ্যাসিস্টেন্স ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন’ গঠনে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।</p><p>* জীবন তরী: নদীমাতৃক অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের পরিহারযোগ্য প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের জন্য ১৯৯৯ সালে দেশের প্রথম ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’ প্রতিষ্ঠা করেন।</p><p>* ভিপস (VIPS) ও অন্যান্য: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের ঐক্যবদ্ধ করতে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ভিপস। এছাড়াও সিএসআইডি (CSID) ও সিডিডি (CDD)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।</p><p>* আন্তর্জাতিক অঙ্গনে: ২০০৬ সালে জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ (UNCRPD) প্রণয়নের চূড়ান্ত অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।</p><p>এপিসোড থেকে কিছু স্মরণীয় উক্তি</p><p>“Firmness is needed to win the success, not the sight. দৃঢ়তা যদি তোমার থাকে, তাহলে সাফল্য তোমার অবশ্যই আসবে।”</p><p>“বাবা বলতেন যে তুমি প্রথম। তোমাকে Fight করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাকে দেখে অন্যরা অনুসরণ করবে।”</p><p>“সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা প্রথমে মানুষ, তারপরে প্রতিবন্ধী।”</p><p>এই পর্বে আমরা কথা বলেছি প্রতিবন্ধী তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অসহযোগিতা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিবন্ধী শিশুদের বাবা-মায়েদের প্রতি তার বিশেষ বার্তা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য তার দিকনির্দেশনা এই পর্বটিকে করে তুলেছে ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল।</p><p>🎧 পুরো আলোচনাটি শুনতে বা দেখতে ক্লিক করুন:</p><p>* YouTube: </p><p></p><p>এই অনুপ্রেরণাদায়ী পর্বটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। সাবস্ক্রাইব করে Impact




